একাধিক বেসরকারি জরিপের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে আরো সংকুচিত হয়েছে ইউরোজোনের কারখানা কার্যক্রম। তবে রফতানি ক্রয়াদেশ পুনরুদ্ধার ও কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদা বাড়তে থাকায় এশিয়ার শিল্প খাতনির্ভর দেশগুলো শক্তিশালী শিল্পোৎপাদনের মাধ্যমে ২০২৫ সাল শেষ করেছে। খবর রয়টার্স।
গত মাসে ইউরোজোনে কারখানা কার্যক্রম সংকোচনের কারণ ছিল নতুন ক্রয়াদেশের আরো পড়তি দশা। এতে ১০ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো উৎপাদন কমেছে অঞ্চলটিতে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল সংকলিত এইচসিওবি ইউরোজোন ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ডিসেম্বরে ৪৮ দশমিক ৮-এ নেমেছে, যা নভেম্বরে ছিল ৪৯ দশমিক ৬।
জরিপগুলো ইউরোজোনের ২০টি দেশের মধ্যে কারখানা কার্যক্রমের ব্যাপক পতন নির্দেশ করেছে। ইউরো ব্লকে পর্যবেক্ষণ করা আটটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি। দেশটিতে পিএমআই ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। ইতালি-স্পেনও পুনরায় সংকোচন অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সাইরাস দে লা রুবিয়া বলেন, ‘ইউরোজোনের তৈরি পণ্যের চাহিদা আবারো কমছে। মনে হচ্ছে, কোম্পানিগুলো ব্যবসা বাড়াতে পারছে না বা চাইছে না। বরং সাবধানতা অবলম্বন করছে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’
তবে ইউরোজোনে ডিসেম্বরে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশটিতে ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ৪২ মাসের উচ্চস্তরে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যে শিল্পোৎপাদন ১৫ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে।
এদিকে কয়েক মাস পতনের পর এশিয়ার প্রযুক্তি পণ্যনির্ভর দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের কারখানা কার্যক্রম ডিসেম্বর বেড়েছে। অবশ্য আগের মাসগুলোয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ তেজিভাবে বজায় রেখেছিল।
ডিসেম্বরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন কারখানা কার্যক্রমে অপ্রত্যাশিত পুনরুদ্ধার দেখিয়েছে। ছুটির মৌসুমের আগের ক্রয়াদেশ এতে ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ার বৃহত্তম রফতানিকারকরা মার্কিন শুল্কের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে কিনা এখনো বলা মুশকিল। তবু বিশ্বব্যাপী চাহিদার পুনরুদ্ধার কিছু উৎপাদককে নতুন বছর নিয়ে আশাবাদী করেছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের এশিয়া বিভাগের অর্থনীতিবিদ শিবান ট্যান্ডন বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বেশির ভাগ দেশের রফতানি বেড়েছে। আমরা মনে করি এশিয়ার রফতানিমুখী উৎপাদন খাতের স্বল্পমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি অনুকূলই থাকবে।’